Breaking News

শতবর্ষী বৃদ্ধা মাকে বস্তায় ভরে রাস্তায় ফেলে গেল সন্তানরা

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে হাসিনা বেগম নামে এক শতবর্ষী বৃদ্ধাকে গভীর রাতে ছালার বস্তায় ভরে রাস্তায় ফেলে যায় সন্তানরা। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নিজের ছেলে সাহিদ ও দুই সৎ ছেলে দুলাল, জালাল ও তাদের ছেলে মেয়েরা ভালো থাকলেও সংসারে ঠাই হয়নি বৃদ্ধার। পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর জন্মেজয় এলাকায় থাকেন বৃদ্ধা হাসিনা বেগম। স্বামী আব্দুল খালেক মারা গেছেন ৩০ বছর আগে। জীবিত কোনো সন্তান কিংবা সন্তানদের ছেলে-মেয়েরা বৃদ্ধাকে খেতে-পরতে দিতে চায় না।

কনকনে ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশার মধ্যে মঙ্গলবার রাতে গফরগাঁও-ভালুকা সড়কের ষোলহাসিয়া এলাকায় একটি দোকানের সামনে হাসিনা বেগমকে ফেলে রেখে যায় তার সন্তানরা।

বুধবার ভোরে একটি ছালার ভেতরে সারা শরীর ও বাইরে মুখ বের করা অবস্থায় হাসিনা বেগমকে দেখতে পায় পথচারীরা। তা দেখতে পেয়ে তারা গফরগাঁও থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধাকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। তার দুই চোখ বেয়ে অশ্রু ঝড়ছে। শতবর্ষী বৃদ্ধার ক্ষীণ কণ্ঠে কিছু বলতে চাইলেও তা বোঝা যাচ্ছে না। বৃদ্ধার বাড়ি হাসপাতাল থেকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে হলেও বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নেয়ার ৫ ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবারের কোনো সদস্য হাসপাতালে দেখতে যায়নি।

এ ঘটনায় বৃদ্ধার সৎ ছেলে দুলাল ও দুলালের মেয়ের জামাই আনোয়ার হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃদ্ধার ছেলে সাহিদ ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া গ্রামে বাস করেন। স্থানীয়রা জানান, ৩০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে সংসারের হাল ধরে রেখেছিলেন হাসিনা বেগম। এখন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। চলাফেরাও করতে পারেন না তিনি। ছেলে ও পরিবারের লোকজনের কাছে হয়ত বোঝা হয়ে গেছেন তিনি।

গফরগাঁও থানার ওসি অনূকুল সরকার বলেন, এখন বৃদ্ধাকে তার ছেলেদের কাছে কিংবা নাতিদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। বৃদ্ধার যাতে কোনো অযত্ন না হয় সেজন্য থানা পুলিশ তদারকি করবে।

error: Content is protected !!